ধর্ম: দাওয়াত দেয়া ও গ্রহণ করায় করণীয়

ধর্ম:

দাওয়াত দেয়া ও গ্রহণে করণীয়

 

মেহমানদারি ও সম্পর্কোন্নয়নের রয়েছে দুটি মাধ্যম। একটি হচ্ছে দাওয়াতকারী তথা মেজবান, অপরটি হচ্ছে দাওয়াত গ্রহণকারী বা মেহমান। দাওয়াত গ্রহণ এবং প্রদানে রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

 

পারিবারিক ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় দাওয়াত প্রদান ও গ্রহণ অনেক জরুরি বিষয়। কারণ ইসলাম দাওয়াত গ্রহণ ও প্রদানের মতো বড় সামাজিকতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে।

 

কুরআন ও হাদিসে এসব বিষয়ে অনেক তাগিদ দেয়া হয়েছে। আবার সম্পর্ক নষ্ট করার ব্যাপারে হাদিসে ভয়াবহ শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

 

পারস্পরিক সুসম্পর্ক বজায় রাখতে মেহমানদারি তথা দাওয়াত গ্রহণ এবং প্রদানের রয়েছে উত্তম আদব। তাহলো- দাওয়াত দেয়ার ক্ষেত্রে করণীয়

 

>> সুন্নাতের নিয়তে আন্তরিকতার সঙ্গে দাওয়াত দেয়া, তা যেন লোক দেখানোর উদ্দেশ্য না হয়।

 

> মেহমান আসার সঙ্গে সঙ্গে দেরি না করে আপ্যায়ন করা। আর আপ্যায়নের সময় দেরি না করে মেহমানকে খাবার দেয়া উত্তম।

>> খাবার ব্যাপারে প্রশ্ন না করে খাবার পরিবেশন করা।

 

>> মেহমানদারির শুরুতে হালকা খাবার ও পরে সাধ্যমতো ভারি ও উত্তম খাবার পরিবেশ করা। কারণ জান্নাতে প্রথমে মুমিন বান্দাকে ফল দিয়ে আপ্যায়ন করা হবে এবং পরে ভারী খাবার পরিবেশনের দিকনির্দেশনা রয়েছে।

 

>> মেহমান যদি হকদার, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী হয় তবে তাদের যথাযথ আপ্যায়ন ও খেদমত করা।

 

>> মেহমানদারির পর বিদায়ের মুহূর্তে মেহমানকে সামনে এগিয়ে দিয়ে আসাও প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাত।

 

দাওয়াত গ্রহণে করণীয়

>> সমস্যা না থাকলে দাওয়াত কবুল করা।

>> দাওয়াত গ্রহণে ধনী-গরিব সবাইকে সম্মান করা।

 

>> দাওয়াত গ্রহণের সময় (মেজবানকে) সুনির্দিষ্ট কোনো খাবারের ব্যাপারে নিজেকে তাগিদ না দেয়া। তবে যদি নির্দেশনা থাকে তবে, সবচেয়ে সহজসাধ্য মেনু নির্বাচন করাই উত্তম।

 

>> দাওয়াত গ্রহণকারী ব্যক্তি সঙ্গে করে অতিরিক্ত কাউকে দাওয়াতে না নেয়া। যদি অনুমতি থাকে তবে সে ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই।

 

>> দাওয়াতের সুনির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা করা।

>> মেজবান যাই আয়োজন করুন না কেন; তা সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করা।

>> আয়োজনকারীদের খাবারের স্বাদ ও মেহমানদারীর প্রশংসা করা।

 

>> খাবারসহ মেহমানদারির যাবতীয় আয়োজন শেষে দাওয়াত প্রদানকারীর জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা।

 

>> দাওয়াতে উপস্থিত হওয়ার ক্ষেত্রে উপঢৌকন বা উপহার দেয়ার ভয় বা লজ্জায় দাওয়াত বর্জন না করা।

 

>> দাওয়াত গ্রহণ করে একাধারে কারো বাড়িতে ৩ দিনের বেশি অবস্থান না করা।

 

>> ফেতনার আশংকা থাকলে যে বাড়িতে পুরুষ অভিভাবক নেই; সে দাওয়াতে না যাওয়া।

 

>> সামর্থ থাকলে মেজবানের বাড়িতে সাধ্যানুযায়ী হাদিয়া বা উপঢৌকন নেয়া।

 

পরিশেষে… দাওয়াত গ্রহণ ও প্রদানের মানবীয় গুণাবলীগুলো নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করে সুন্নাতের ওপর আমল করা যেমন জরুরি। তেমনি আল্লাহ নৈকট্য অর্জনে প্রিয় নবী (দ:) এঁর সুন্নাতের অনুসরণ করাও জরুরি।

 

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং শেষ দিনের প্রতি ঈমান আনে সে যেন মেহমানকে সম্মান করে, তাকে ‘জাইযা’ দেয়। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, ‘জাইযা’ কী? তিনি বললেন, এক দিন ও এক রাতের সম্বল সাথে দিয়ে দেয়া।

 

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দাওয়াত দেয়া এবং তা গ্রহণে যথাযথ হক আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমীন!

দাওয়াত গ্রহণ করা সুন্নত

 

ইসলামের আলো ডেস্ক: হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কাউকে খাবারের দাওয়াত দেওয়া হয়, তখন সে যেন তা (কোনো আপত্তিকর ব্যাপার না থাকলে সাদরে) গ্রহণ করে। আর সে যদি রোজা অবস্থায় থাকে, তাহলে যেন (দাওয়াতকারীর জন্য) দোয়া করে। আর যদি রোজা অবস্থায় না থাকে, তাহলে যেন আহার করে।’ (মুসলিম : ১৪৩১; তিরমিজি : ৭৮০)

 

শিক্ষা: দাওয়াত দেওয়া ও গ্রহণ করা অন্যতম সুন্নত আমল। রাসুল (সা.)-ও সবার দাওয়াতই গ্রহণ করার চেষ্টা করতেন। এমনকি অনেক বিধর্মীর দাওয়াতও তিনি গ্রহণ করেছেন। যখন কোনো ব্যক্তি দাওয়াত দেবে তখন তাকে নিরাশ না করা। বরং রোজা বা অন্য কোনো অপারগতার কারণে খেতে না পারলে তার জন্য উত্তম দোয়া করা। রোজা না থাকলে সাধ্যমতো মেজবানকে খুশি করা ও আহারে অংশগ্রহণ করা।

দাওয়াত

ধর্মপ্রচার
দা’ওয়াহ বা দাওয়াহ (আরবিدعوة‎, প্রতিবর্ণী. “আমন্ত্রণ”‎) মানে ইসলামের প্রচার। দা’ওয়াহ আক্ষরিক অর্থে “আমন্ত্রণ” করাকে বোঝায়, ক্রিয়ার সক্রিয় অংশগ্রহণ যার অর্থ বিভিন্নভাবে “ডাকা” বা “আমন্ত্রণ জানানো”। একজন মুসলিম যিনি ধর্মীয় কর্মী হিসাবে বা স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায়ের প্রচেষ্টায় দা’ওয়াহ অনুশীলন করেন, তাকে দাঈ, বহুবচন দুʿআত বলা হয়। এইভাবে একজন দাঈ এমন একজন ব্যক্তি যিনি মানুষকে একটি সংলাপ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইসলাম বোঝার জন্য আমন্ত্রণ জানান, এবং কিছু ক্ষেত্রে মিশনারির ইসলামিক সমতুল্য হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা যেতে পারে, যিনি মানুষকে বিশ্বাস, প্রার্থনা বা ইসলামিক জীবনে আমন্ত্রণ জানান।[১]ইসলামের মধ্যে সালাফি ও জামাতে ইসলামির মতো কিছু গোষ্ঠীর জন্য দাওয়াহকেও রাজনৈতিক কার্যকলাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই দলগুলোর জন্য, দাওয়াহ প্রচার করার লক্ষ্য হচ্ছে আধুনিক যুগে ইসলামের পতন হিসাবে তারা যা উপলব্ধি করে তার বিপরীত কিছু প্রকৌশলী করা, ইসলামপন্থী মতাদর্শের নিয়মতান্ত্রিক প্রচারের মাধ্যমে এবং শেষ পর্যন্ত একটি ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সক্ষম করা।

 

সম্পাদনা: এইচ এম রানা, সূত্র: এমএমএস/জেআইএম

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email