
তারুণ্যের বাস্তব ভাবনায় মাহে রামাদান: তাজকিয়ার সেমিনার ও কেন্দ্রীয় ইফতার মাহফিল
পবিত্র মাহে রামাদানে যুবসমাজকে আত্মশুদ্ধি, সংযম ও নৈতিকতার চর্চায় উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে তারুণ্য নির্ভর সংগঠন ‘তাজকিয়া’র উদ্যোগে “তারুণ্যের বাস্তব ভাবনায় মাহে রামাদান” শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (০৬ মার্চ) নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম মিলনায়তনে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- লেখক ও গবেষক মাহাদী গালিব। তিনি তার সারগর্ভ আলোচনায় উল্লেখ করেন, “পবিত্র মাহে রামাদান কেবল ইবাদতের মাস নয়, বরং এটি আত্মসমালোচনা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও নৈতিক উৎকর্ষ সাধনের এক অনন্য সুযোগ।”
তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, “আধুনিক যুগের নানা বিভ্রান্তি, ইন্টারনেট নির্ভর জীবন ব্যবস্থা এবং ব্যস্ততার মধ্যেও রামাদানের চেতনাকে ধারণ করে আত্মশুদ্ধির পথে অগ্রসর হওয়াই প্রকৃত সফলতা।”
আলোচনায় তিনি আরও উল্লেখ করেন, “তরুণ সমাজ যদি রামাদানের শিক্ষা, সংযম, সহমর্মিতা ও আত্মশুদ্ধি যদি নিজেদের জীবনে বাস্তবভাবে ধারণ করতে পারে, তবে ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে সমাজ জীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”
সেমিনারে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ তরুণ সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। তাছাড়া, উক্ত সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন শাহানশাহ্ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্টের সম্মানিত সচিব এ. ওয়াই. এমডি. জাফর, তাজকিয়ার প্রধান উপদেষ্টা প্রকৌশলী সৈয়দ আবু নাসের নূর অন্তু, বাণিজ্যিক রাজধানী পত্রিকার সম্পাদক সাংবাদিক এইচ এম আলমগীর চৌধুরী রানা, সূফী কথার বার্তা সম্পাদক আল সিরাজ ভাণ্ডারী, দৈনিক কর্ণফুলীর রিপোর্টার এম এ মন্নান ও তাজকিয়ার সাবেক কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও শাখা প্রতিনিধিবৃন্দ।
বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিবৃন্দ, মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ এর বিভিন্ন শাখা পর্যায়ের শুভাকাঙ্ক্ষীবৃন্দ, বিভিন্ন তরুণ সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ। তারা রামাদানে নিজেদের করণীয়, সময় ব্যবস্থাপনা, ইবাদতের ধারাবাহিকতা এবং নৈতিক জীবন গঠনের নানা দিক নিয়ে মতামত ব্যক্ত করেন।
উক্ত আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন তাজকিয়া কেন্দ্রীয় পর্ষদ এর সম্মানিত সভাপতি মোঃ রমিজ আলী।
অনুষ্ঠানের আয়োজকরা জানান, যুব সমাজের মাঝে আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা ও ইতিবাচক জীবনদর্শন গড়ে তুলে ‘ঐশী প্রেমের জাগরণ সৃষ্টি’ করতে ভবিষ্যতেও তাজকিয়ার পক্ষ থেকে এই ধরনের সেমিনার ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
পরিশেষে মিলাদ-কিয়াম ও মুনাজাত পরবর্তীতে সম্মিলিতভাবে ইফতার গ্রহণের পর উক্ত আয়োজনের পরিসমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।





