বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা প্রতিষ্ঠাই ছিলো তাঁর সবচেয়ে বড় কারামত

ঢাকায় হাদীয়ে জামান হযরত সেহাবউদ্দীন খালেদ (রহঃ) কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা প্রতিষ্ঠাই ছিলো তাঁর সবচেয়ে বড় কারামত
ঢাকায় হাদীয়ে জামান হযরত সেহাবউদ্দীন খালেদ (রহঃ) কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

বোয়ালখালী প্রতিনিধি (চট্টগ্রাম):
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীস্থ আহলা দরবার শরীফের আধ্যাত্মিক সাধক, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের অতন্দ্র প্রহরী, সুন্নীয়তের স্বপ্নদ্রষ্টা, সুন্নীয়তকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানে দুর্জেয় মুজাহিদ, মুনাজেরে আহলে সুন্নাত, হাদীয়ে জামান হযরতুল আল্লামা শাহ্সূফী সৈয়দ আবু জাফর মোহাম্মদ সেহাবউদ্দীন খালেদ (রহ)’র স্মরণে হাদীয়ে জামান হযরত সেহাবউদ্দীন খালেদ (রহঃ) কনফারেন্স-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকাল ৩টায় ঢাকার তোপখানা রোডস্থ জাতীয় প্রেস ক্লাব সংলগ্ন বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) অডিটোরিয়ামে হাদীয়ে জামান হযরত সেহাবউদ্দীন খালেদ (রহঃ) কনফারেন্স-২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন ও কনফারেন্স পরিচালনা করেন আহলা দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন শাহ্সুফী সৈয়দ আবরার ইবনে সেহাব আল্-কাদেরী, আল্-চিশতি (মাদ্দাজিল্লুহুল আলী)।

কোরআন তেলোয়াত, হামদে এলাহী-নাতে রাসুল (দ:) পরিবেশনের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। এরপর হাদীয়ে জামান হযরত সেহাবউদ্দীন খালেদ (রহঃ) স্মরণে প্রকাশিত স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এই মহতি কনফারেন্সে হাদীয়ে জামান হযরতুল আল্লামা সেহাবউদ্দীন খালেদ (রহঃ)-এঁর স্মরণে তাঁর জীবন, কর্ম ও আধ্যাত্মিক অবদানের উপর বিশেষ প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করেন আমন্ত্রিত অতিথিসহ ওলামায়ে কেরামগণ।

কনফারেন্সে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হযরত গাউসুল আজম মাইজভান্ডারী (ক.)’র নূরানী আওলাদে পাক শাহজাদা সৈয়দ হোসেইন রাইফ নুরুল ইসলাম (রুবাব) মাইজভান্ডারী (মাদ্দাজিল্লুহুল আলী), আহলে সুন্নাত ওয়াল জাম’আত এর সম্মানিত চেয়ারম্যান আল্লামা কাজী মুহাম্মদ মঈনুদ্দিন আশরাফী, আহলে সুন্নাত ওয়াল জাম’আত এর মহাসচিব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর আল্লামা ড. আব্দুল্লাহ আল মারুফ, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আল্লামা মুফতি কাজী আব্দুল আলীম রিজভী, শায়খুল হাদীস আ ন ম নাজমুল হুসাইন নঈমী, ঢাকাস্থ মোহাম্মদপুর কাদেরীয়া তৈয়্যবিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন আল-আজহারী, প্রধান মুফতি আল্লামা মাহমুদুল হাসান আল-কাদেরী ও গোমদন্ডী দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন পীরজাদা শাহসূফী সৈয়দ আহমদুল হক মাইজভান্ডারী।

বক্তারা বলেন- বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা প্রতিষ্ঠাই ছিলো তাঁর সবচেয়ে বড় কারামত। তিনি ছিলেন খানকার পীর এবং রাজপথের বীর। তিনি শুধু সাহসী ছিলেন না, তিনি ছিলেন দুঃসাহসী। বাংলার জমিনে সুন্নীয়তকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য তিনি তাঁর বর্ণাঢ্য জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। তাঁর হাতে গড়া সংগঠন আজ সারাবিশ্বে বিস্তৃত। তাঁর দূরদর্শী মেধা, শ্রম, অর্থের এই ত্যাগগাঁথা কেয়ামত পর্যন্ত অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

মাওলানা জসিম উদ্দিন নূরী ও মুশফিকুর রহমান এর যৌথ সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রবীণ আলেমেদ্বীন মাওলানা ফরিদুল আলম রেজভী, ক্যান্সার গবেষক অধ্যক্ষ ডাঃ এস. এম. সরওয়ার, ইসলামী ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব গোলাম মাহমুদ ভূইয়া মানিক, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসাইন তুষার এবং বর্তমান সভাপতি মুহাম্মদ আজাদ হোসাইন, মাস্টার আবুল হোসাইন প্রমুখ।

এতে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত এর দেশ বরেণ্য উলামায়ে কেরামগণ, ইসলামী স্কলার, লেখক, গবেষক,  রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, ইলেকট্রনিক এবং প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, আঞ্জুমানে আসাদীয়া নূরীয়া সেহাবীয়া কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি, বিভিন্ন জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, পাড়া-মহল্লা কমিটির সদস্য, আশেক- ভক্তবৃন্দ, বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

কনফারেন্সে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। সবশেষে মিলাদ মাহফিল, আখেরী মোনাজাত ও তবারুক বিতরণের মধ্যদিয়ে কনফারেন্সের সমাপ্তি ঘটে।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email