
চট্টগ্রামে স্বাধীনতা প্রকল্পের বিভাগীয় কোয়ালিশন সভা অনুষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার সচেতনতা এবং নিরাপদ ডিজিটাল পরিসর গড়ে তোলার লক্ষ্যে চট্টগ্রামে শনিবার (২ মে) অনুষ্ঠিত হয়েছে স্বাধীনতা (Swadhinata) প্রকল্পের বিভাগীয় কোয়ালিশন সভা। নগরের এশিয়ান এসআর হোটেলে আয়োজিত এ সভার আয়োজন করে চট্টগ্রাম বিভাগের সহযোগী সংগঠন প্রত্যাশী।
সভায় চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। কোয়ালিশনের অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের দিকনির্দেশনা, জেলা পর্যায়ে কার্যক্রম সম্প্রসারণের কৌশল এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রকল্পের মূল বার্তা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সভাটি ছিল অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সমন্বয়, পরিকল্পনা এবং অভিন্ন লক্ষ্য নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসর।
আলোচনায় উঠে আসে, বর্তমান সময়ে ভুল তথ্য, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার জনমত গঠন, সামাজিক সম্প্রীতি এবং নাগরিক অধিকারচর্চার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, অনলাইন হয়রানি এবং ভয়ভীতির সংস্কৃতি বিশেষ করে নারী, তরুণ, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মতপ্রকাশের পরিসর সংকুচিত করছে। এই বাস্তবতায় স্থানীয় পর্যায়ে সচেতন, সংযুক্ত এবং দায়িত্বশীল নাগরিকভিত্তি তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। কোয়ালিশন সভাটি সেই প্রয়োজনীয়তাকেই সামনে এনেছে।
কোয়ালিশনের অংশগ্রহণকারীরা বলেন, মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা, অনলাইন হয়রানি এবং মিসইনফরমেশন, ডিসইনফরমেশন ও ম্যালইনফরমেশন বিষয়ে স্থানীয় মানুষকে আরও সচেতন করতে হলে জেলা পর্যায়ে ধারাবাহিক যোগাযোগ, সংলাপ এবং অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগ বাড়াতে হবে। তাঁরা মনে করেন, কেবল তথ্য দেওয়া যথেষ্ট নয়; বরং সঠিক তথ্য যাচাই, দায়িত্বশীল অনলাইন আচরণ এবং অধিকারভিত্তিক অংশগ্রহণের সংস্কৃতি গড়ে তোলাও জরুরি।
সভায় আরও আলোচনা হয়, কীভাবে স্বাধীনতা প্রকল্পের চলমান কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করা যায়। প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতি, বিভাগীয় পর্যায়ের সংগঠিত উদ্যোগ, এবং পরবর্তী সময়ে জেলা পর্যায়ে মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ভুল তথ্য প্রতিরোধ ও ডিজিটাল নিরাপত্তাবিষয়ক ওরিয়েন্টেশন কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।স্বাধীনতা প্রকল্পটি দেশব্যাপী ৮ বিভাগ ও ৬৪ জেলায় কাজ করছে এবং বিভাগের নারী অধিকারভিত্তিক সংগঠনগুলোর মাধ্যমে এর মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাখনুন সুলতানা, প্রোগ্রাম অফিসার, প্রত্যাশী এবং মোহাম্মদ নাফসিন মাবুদ ইফতি, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রাম অফিসার, প্রত্যাশী। উপস্থিত ছিলেন নুসরাত ফাতিমা, প্রজেক্ট অফিসার (মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন), মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ); ফজিলাতুন নেসা, প্রজেক্ট অফিসার, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ); এবং আবদুল আলিম, ফাইন্যান্স ফোকাল, প্রত্যাশী।
কোয়ালিশনের অংশগ্রহণকারীরা বলেন, স্বাধীনতা প্রকল্পের বড় শক্তি হলো এর স্থানীয়ভিত্তিক অংশীদারিত্ব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে এমন একটি সামাজিক ও ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে, যেখানে নারী, তরুণ, সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠী আরও নিরাপদভাবে নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারবেন, তথ্য সম্পর্কে সচেতন হতে পারবেন এবং নাগরিক জীবনে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।
স্বাধীনতা প্রকল্পটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় পরিচালিত, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর নেতৃত্বে এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)-এর বাস্তবায়নে পরিচালিত হচ্ছে। চট্টগ্রাম বিভাগে এ প্রকল্পের বিভাগীয় সহযোগী সংগঠন হিসেবে কাজ করছে প্রত্যাশী।





