পানিতে তলিয়ে গেছে ৫৫ হেক্টর কষ্টের ফসল

বোয়ালখালীতে কৃষকের সর্বনাশ করেছে কালবৈশাখী ঝড়!

পানিতে তলিয়ে গেছে ৫৫ হেক্টর কষ্টের ফসল

বোয়ালখালীতে কৃষকের সর্বনাশ করেছে কালবৈশাখী ঝড়!

বোয়ালখালী প্রতিনিধি (চট্টগ্রাম) :
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে উৎসবের আবহে শুরু হয়েছিল বোরো ধান কাটা। তবে উৎসব মলিন হতে সময় নেয়নি কালবৈশাখী ঝড়ে। টানা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে শত শত কৃষকের কষ্টের ফসল। এখন কৃষকের মাঝে আর আনন্দ নেই। আছে আর্তনাদ আর হাহাকার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত তিন দিনের টানা বৃষ্টি আর জোয়ারের পানিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৫৫ হেক্টর জমির পাকা ধান পানির নীচে তলিয়ে গেছে। এছাড়া কাটা ও মাড়াইয়ের জন্য রাখা ধানও বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে। কৃষকেরা জানান, ধান কাটার শুরুতেই টানা তিন দিনের ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টির পানিতে লুটিয়ে পড়ে পাকা ধান। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।
এর মাঝে নতুন করে যোগ হয়েছে তীব্র শ্রমিক সংকট। দুর্যোগপূর্ণ এই সময়ে দ্রুত ধান কাটতে না পারায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষক।

বর্তমানে একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ১,১০০ টাকায় পৌঁছেছে। এর সাথে শ্রমিকের তিন বেলার খাবারের খরচ এবং পান ও সিগারেটের ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। এত চড়া মজুরি দিয়েও পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। পরিস্থিতি এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যেন “মরার ওপর খাঁড়ার ঘা” এমনটাই জানান তারা।

আমুচিয়া ইউনিয়নের কৃষক মো আব্দুল জলিল বলেন, ৫০ কানি জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছেন তিনি।
ফলনও হয়েছে ভালো। ১২ কানি জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ৩ লাখ টাকার মতো ক্ষতির আশংকা করছেন তিনি। ওই এলাকার কৃষক এসএম বাবর জানান, তার ১২ একর জমির মধ্যে ৬ একর ধান নষ্ট হয়েছে। এতে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হবে। একই কথা জানিয়েছেন কৃষক বিমলেন্দু বড়ুয়া, জিষু বড়ুয়া ও সোন ঘোষ।
এদিকে জ্যৈষ্ঠপুরা এলাকার কৃষক বাসু চৌধুরী বলেন, “বৃষ্টি শুরুর আগের দিন ধান কেটেছিলাম, কিন্তু ঘরে তুলতে পারিনি। সব শেষ হয়ে গেছে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শাহানুর ইসলাম জানান, টানা বৃষ্টিতে প্রায় ৫৫ হেক্টর জমির ধান পানিতে ডুবে থাকায় ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে ১০ হেক্টর আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৫ হেক্টর সবজির ক্ষেতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বোয়ালখালীতে এবার মোট ১ হাজার ৬৯২ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৫ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে, বাকি ৯৫ শতাংশ এখনো মাঠে রয়েছে। পানি নেমে গেলে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা যাবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পুরো ধান কাটতে আরও ১৫–২০ দিন সময় লাগবে।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email