
প্রত্যন্ত জনপদে দীনের আলো ছড়াচ্ছে নূরীয়া তা’লীমুল কুরআন মাদ্রাসা: আবদুল্লাহ মজুমদার
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার প্রত্যন্ত অঞ্চল চরম্বার উত্তর মাইজবিলা—দেড়শত ঘর আবাসনসংলগ্ন নীরব জনপদে গড়ে উঠেছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, “নূরীয়া তা’লীমুল কুরআন মাদ্রাসা ও সাংবাদিক আলহাজ্ব মিজানুর রহমান চৌধুরী হেফজখানা ও এতিমখানা”। আধুনিকতা ও নৈতিক সংকটের এই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি শুধু কুরআনের শিক্ষাই নয়, কোমলমতি শিশুদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়েও কাজ করে যাচ্ছে নিরলসভাবে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক বর্ষীয়ান সাংবাদিক, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব মিজানুর রহমান চৌধুরী। তাঁর আন্তরিক সহযোগিতা, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও পৃষ্ঠপোষকতায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য শিক্ষার এক আলোকবর্তিকায় পরিণত হয়েছে এ মাদ্রাসা। সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি দ্বীনি শিক্ষার প্রসারেও তাঁর অবদান স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত।
মাদ্রাসাটি উদ্বোধনকালে আলহাজ্ব মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, “ইসলামি শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। ইসলামি জ্ঞান না থাকলে একজন মানুষ চোখ থাকিতেও অন্ধের মতো হয়ে যায়।” তিনি আরও বলেন, নৈতিক অবক্ষয় ও মূল্যবোধের সংকট থেকে সমাজকে রক্ষা করতে হলে কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক শিক্ষার প্রসার অপরিহার্য। তাঁর এ বক্তব্য উপস্থিত অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে।
মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মাওলানা দ্বীন মুহাম্মদ রব্বানী। তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা এ প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে স্থানীয় মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাওলানা আবু হুরায়রা বিন জুনায়েদ। তিনি শিক্ষার্থীদের দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
বর্তমানে মাদ্রাসাটিতে মক্তব বিভাগ চালু রয়েছে, যেখানে স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কুরআন শিক্ষা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি নূরানি বিভাগে জেনারেল শিক্ষার সমন্বয়ে প্লে-নার্সারি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে, ইনশাআল্লাহ। এছাড়া হেফজ ও নাজেরা বিভাগে শিক্ষার্থীদের কুরআন শিক্ষার বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ৭৩ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। তাদের পাঠদানে নিয়োজিত আছেন ৫ জন শিক্ষক ও কর্মচারী। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও শিক্ষকরা আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে এতিম ও অসচ্ছল পরিবারের শিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠানটি এক নিরাপদ শিক্ষাঙ্গনে পরিণত হয়েছে।
গত ৯ মে শনিবার মাদ্রাসাটি পরিদর্শন করেন চট্টগ্রামের নন্দিত সংগঠক ও লেখক আবদুল্লাহ মজুমদার। সফরকালে তিনি প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটান। এ সময় তিনি প্রত্যন্ত অঞ্চলে দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে মাদ্রাসাটির অবদানের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি এমন মানবিক ও শিক্ষামূলক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সব প্রতিকূলতার মাঝেও নীরবে এগিয়ে চলা “নূরীয়া তা’লীমুল কুরআন মাদ্রাসা ও সাংবাদিক আলহাজ্ব মিজানুর রহমান চৌধুরী হেফজখানা ও এতিমখানা” আজ প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে আশার প্রতীক। দীনের আলো, নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে রেখে যাচ্ছে অনন্য অবদান।
লেখক: সাংবাদিক ও নন্দিত সংগঠক।





